সারাদেশ

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিসে দুর্নীতি

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিসে দুর্নীতি
📷 ছবি: সংগৃহীত
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিসে দুর্নীতি
গাইবান্ধায সদরে নলকুপের ২৫০ ফুট পাইপের স্থলে ১৬০ ফুট বিতরণ। হাতিয়ে নিচ্ছে ৫০ থেকে এক লক্ষ টাকা!

আব্দুর রাজ্জাক সরকার, স্টাফ রিপোর্টার,

গাইবান্ধা জেলার জনসা্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। যা ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

প্রকাশ- গাইবান্ধাসহ সারা দেশের আয়রন মুক্ত পানির চাহিদা পূরণে সরকারের মহৎ উদ্যোগকে ভেস্তে দেয়ার উদ্দেশ্যে অন্যান্য উপজেলার ন্যায় গাইবান্ধা সদর উপজেলার জনসা্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে নলকুপ খননের জন্য বরাদ্দ প্রদান করা হয়। জন সাধারণের সুবিধার জন্য প্রতিটি নলকুপের বিপরীতে ১৫'শ টাকা হারে ফি প্রদান করতে হয়। ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ইতোমধ্যে গাইবান্ধা সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে উল্লেখিত দুই শতাধিক নলকুপ বিতরণ করা হয়। প্রতিটি নলকুপের জন্য নলকুপের হেড ও ৫ ফুট স্টিল পাইপসহ ২'শ ৫০ ফুট প্লাষ্টিক পাইপ ও ফিল্টার পাইপ বিনামূল্যে বিতরণ করে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের নিয়োগ প্রাপ্ত মেকানিক দ্বারা উল্লেখিত নলকুপ খনন করে দেয়ার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ শুধুমাত্র নলকুপের হেড ও স্টিল পাইপসহ ১'শ ৬০ ফুট প্লাষ্টিক পাইপ বিতরণ করেন।

সুত্র জানায়, মেকানিকরা জন সাধারণের কাছে প্রচার করেন যে, মিস্ত্রীরা যে কয়দিন কাজ করবে সেই কয়দিন তাদের দুপুরে ভাতসহ আপ্যায়নের সকল ব্যয় বহন করতে হবে। আরো উল্লেখ করেন যে, আয়রণ মুক্ত পানি প্রাপ্তির জন্য যে কয়দিন ৫/৬ জন মিস্ত্রী কাজ করবে, তার এক দিন বাদ দিয়ে পরবর্তি প্রতিদিন ৩ হাজার ৫শ করে প্রদান করতে হবে। এই ভাবে ১৬০ ফুট পাইপের স্থলে আয়রণ মুক্ত পানি প্রাপ্তির জন্য ২৫০ ফুট পর্যন্ত পাইপ সরকার দিবে। সরেজমিনে দেখা যায়, এই চুক্তিতে এলাকার সহজ সরল মানুষ উল্লেখিত দুর্নীতির দোসর মেকানিকদের মিষ্টি কথায় ভুলে গিয়ে আয়রন মুক্ত পানির আশায় ১০ থেকে ১৫/২০ দিন পর্যন্ত তাদের মিস্ত্রী দ্বারা কাজ করে নিয়ে ৫০ হাজার থেকে এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত পরিশোধ করতে বাধ্য হচ্ছে।

এ ব্যাপারে সম্প্রতি গাইবান্ধা সদর উপজেলার উপ-সহকারী প্রকৌশলী আজমীর হোসেনের কাছে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করতে বলেন। পরে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করলে তথ্য মুল্য বাবদ ২০ হাজার ৮শ ৪০ টাকা সরকারি কোষাগারে ৫ কর্ম দিবসের মধ্যে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে বলেন।

ফলে এলাকার সচেতন মহল মতামত ব্যক্ত করে বলেন, গাইবান্ধা সদর উপজেলার ধুরন্ধর উপ-সহকারী প্রকৌশলী আজমির হোসেন তথ্য যাতে দেয়া না লাগে বা দিতে না হয় সেক্ষেত্রেও চাতুরিপনার আশ্রয় গ্রহণ করেন!

সুতরাং উক্ত ধুরন্ধর উপ-সহকারী প্রকৌশলী আজমীর হোসেন তথ্য প্রদানের ক্ষেত্রে যে চাতুরিপনার আশ্রয় নিয়েছেন, তার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পরবর্তি সংখ্যায় প্রকাশিত হবে,