সারাদেশ

৫ম স্ত্রীর মামলায় ‘আপসের শর্তে’ জামিন পেলেন বক্তা হাবিবুর রহমান মিসবাহ

৫ম স্ত্রীর মামলায় ‘আপসের শর্তে’ জামিন পেলেন বক্তা হাবিবুর রহমান মিসবাহ
📷 ছবি: সংগৃহীত


যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর ৩ ধারায় দায়ের করা মামলায় আপসের শর্তে জামিন পেয়েছেন আলোচিত ইসলামিক বক্তা ও ‘৩১৩ প্রোপার্টিজ’-এর চেয়ারম্যান মাওলানা হাবিবুর রহমান মিসবাহ। পঞ্চম স্ত্রী মোসা. হুমায়রা জান্নাতের করা ওই মামলায় আদালতের সমন পেয়ে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আগামী ধার্য তারিখ পর্যন্ত তার জামিন মঞ্জুর করা হয়।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ফেস দ্যা পিপলকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট এবিএম ইবরাহিম খলিল।

আদালত চত্বরে সাংবাদিকদের অ্যাডভোকেট ইবরাহিম খলিল বলেন, যৌতুক মামলায় আজ সমনের জন্য দিন ধার্য ছিল। আসামি হাবিবুর রহমান মিসবাহ আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিন আবেদন করেন। শুনানিতে বাদীপক্ষের পক্ষ থেকে মিসবাহ একাধিক বিয়ে করেছেন বলে আদালতকে জানানো হয়।

আইনজীবীর দাবি, শুনানিতে তাঁরা মিসবাহর ১০টি বিয়ের তথ্য পেয়েছেন বলে আদালতকে জানান। এসব বিয়ের মধ্যে কয়েকটির কাবিননামা বা অন্যান্য প্রমাণ তাঁদের কাছে রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে কাবিননামা, পাসপোর্টসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র মিসবাহ নিজের কাছে আটকে রেখেছেন বলে বাদীপক্ষ অভিযোগ করেছে।

ইবরাহিম খলিল বলেন, বাদীপক্ষের পাওয়া তথ্য অনুযায়ী মিসবাহর স্ত্রীদের মধ্যে মরিয়ম, গাজীপুরের কাপাসিয়ার এক নারী, আসমা, তানিয়া, নাঈমা জান্নাত, মেহের আফরিন, আদিবা, বুশরা, আয়েশা আক্তার ও সাবিফুন্নাহারের নাম রয়েছে।

তাঁর দাবি, শুনানির সময় মিসবাহ আদালতে দুটি বিয়ের কথা স্বীকার করেছেন। এর মধ্যে প্রথম স্ত্রী মরিয়ম এবং বর্তমান বাদী নাঈমা জান্নাত নাম উল্লেখ করেছেন।

আইনজীবী আরও বলেন, আদালত বাদীপক্ষের বক্তব্য রেকর্ড করেছেন। স্বীকৃত দুই বিয়ের বাইরে অন্য কোনো বিয়ের কাবিননামা বা প্রাসঙ্গিক নথি পরবর্তীতে আদালতে দাখিল করা সম্ভব হলে সে অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এসব শর্তের পাশাপাশি আপসের সুযোগ রেখে মিসবাহকে আগামী ধার্য তারিখ পর্যন্ত জামিন দেওয়া হয়েছে।

অন্য বিয়ের কাবিননামা না পাওয়া গেলে কীভাবে তা প্রমাণ করা হবে এমন প্রশ্নের জবাবে ইবরাহিম খলিল বলেন, প্রয়োজনে আদালতের কাছে তদন্তের আবেদন করা হবে। নাম-ঠিকানা দিয়ে তদন্তের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট নারী মিসবাহর স্ত্রী কি না, তা যাচাইয়ের আবেদন করা যেতে পারে বলেও জানান তিনি।

রোহিঙ্গা নারীকে বিয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিদেশি নাগরিককে বিয়ে করার ক্ষেত্রে আইনগত বিষয় রয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিয়ে বৈধভাবে সম্পন্ন হয়েছে কি না, সেটি প্রমাণের বিষয়। কাবিন ও নিবন্ধন ছাড়া বিয়ের দাবি করা হলে তা আইনগতভাবে যাচাই করা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বাদীর নিরাপত্তার বিষয়ে আইনজীবী বলেন, বিষয়টি আদালতকে জানানো হয়েছে। বাদীর নিরাপত্তার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা নেওয়া হবে। কোনো হুমকি দেওয়া হলে স্থানীয় থানায় সাধারণ ডায়েরি বা অভিযোগ করার সুযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, ফেসবুকে পরিচয়ের পর ২০২০ সালে হুমায়রা জান্নাতকে বিয়ে করেন হাবিবুর রহমান মিসবাহ এমন তথ্য মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তীতে ২০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি, নির্যাতন, পরকীয়া এবং একাধিক বিয়ের তথ্য গোপনের অভিযোগ এনে তিনি আদালতে যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর ৩ ধারায় সি.আর. মামলাটি দায়ের করেন। গত ২০ আগস্ট মামলাটি আমলে নিয়ে মিসবাহর বিরুদ্ধে সমন জারি করেন আদালত।