বাংলাদেশ

৪৯তম বিসিএস: গেজেটে নাম নেই বুশরার, উঠছে স্বচ্ছতা ও যাচাই প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন

৪৯তম বিসিএস: গেজেটে নাম নেই বুশরার, উঠছে স্বচ্ছতা ও যাচাই প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন
📷 ছবি: সংগৃহীত
৪৯তম বিসিএস: গেজেটে নাম নেই বুশরার, উঠছে স্বচ্ছতা ও যাচাই প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন

মোহাম্মদ উল্যা

বিশেষ প্রতিনিধি

কোম্পানীগঞ্জ, নোয়াখালী।

৪৯তম বিশেষ বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও গেজেটে নাম না থাকায় গোপালগঞ্জের বুশরা জাহান ঐশীর বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ইংরেজি বিষয়ে মেধাক্রমে ১৪তম অবস্থানে থাকা বুশরা দাবি করেছেন, তাঁর আগে ১৩তম ও পরে ১৫তম মেধাক্রমে থাকা প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত গেজেটে থাকলেও তাঁর নাম সেখানে নেই।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর ৪৯তম বিশেষ বিসিএসের চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করা হয়। এতে ৬১১ জনকে নিয়োগের জন্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর আগে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) ৬৬৮ জনকে সাময়িকভাবে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করেছিল। ফলে সুপারিশপ্রাপ্ত ৫৭ জনের নাম চূড়ান্ত গেজেটে স্থান পায়নি।

গেজেটে নাম না আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন বুশরা জাহান ঐশী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি কিংবা তাঁর পরিবারের কোনো সদস্য কখনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। কেন তাঁকে গেজেট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কারণ জানতে চান।

বুশরার দাবি, গোপালগঞ্জে জন্মগ্রহণ করাটা কোনো অপরাধ নয়। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে, একজন প্রার্থীর ব্যক্তিগত মেধা, যোগ্যতা ও পরীক্ষার ফলাফলের মূল্যায়ন যেন তাঁর জন্মস্থান বা পারিবারিক পরিচয়ের সঙ্গে একাকার না করা হয়।

বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে আরও জানা গেছে, ৪৯তম বিসিএসে গোপালগঞ্জ থেকে সুপারিশপ্রাপ্ত ১১ জন প্রার্থীর মধ্যে ৯ জনের নাম চূড়ান্ত গেজেটে স্থান পায়নি। তবে তাঁদের প্রত্যেকের বাদ পড়ার কারণ একই কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা প্রয়োজন।

একজন প্রার্থীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বা রাষ্ট্রবিরোধী কোনো সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ থাকলে তা অবশ্যই যথাযথ যাচাই ও প্রমাণের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা প্রয়োজন। একইভাবে কোনো প্রার্থী সম্পর্কে এমন অভিযোগের প্রমাণ না থাকলে কেবল তাঁর জন্মস্থান বা কোনো এলাকার পরিচয়ের ভিত্তিতে বৈষম্যের সুযোগ থাকা উচিত নয়—এমন মতও আলোচনায় এসেছে।

কারণ কোনো একটি এলাকার কিছু ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের দায় সেই এলাকার সব মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়া ন্যায়সংগত নয়। ভালো-মন্দ, যোগ্যতা-অযোগ্যতা কিংবা অপরাধ-নির্দোষিতা ব্যক্তিভেদে নির্ধারিত হওয়াই স্বাভাবিক। এ ক্ষেত্রে প্রচলিত প্রবাদ—‘মক্কায়ও চোর আছে, লঙ্কায়ও ভিখারি আছে’—বিষয়টির একটি সামাজিক বাস্তবতা তুলে ধরে; অর্থাৎ কোনো ভূখণ্ডের পরিচয় দিয়ে সেখানকার সব মানুষকে একই মানদণ্ডে বিচার করা যায় না।

এ অবস্থায় বুশরার গেজেট থেকে বাদ পড়ার প্রকৃত কারণ প্রকাশ এবং প্রয়োজন হলে বিষয়টি পুনঃতদন্তের দাবি উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাইয়ে যদি বুশরা বা তাঁর পরিবারের কারও বিরুদ্ধে এমন কোনো রাজনৈতিক, ফৌজদারি বা রাষ্ট্রীয় অপরাধের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ না পাওয়া যায়, তাহলে তাঁর বিষয়ে প্রচলিত বিধি ও যাচাই প্রক্রিয়া অনুযায়ী পুনর্বিবেচনার সুযোগ রাখার দাবি জানানো হচ্ছে।

বিসিএসের মতো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় মেধা, যোগ্যতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে মানুষের আস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো প্রার্থী চূড়ান্তভাবে সুপারিশ পাওয়ার পর গেজেটে অন্তর্ভুক্ত না হলে তাঁর বাদ পড়ার কারণ জানার সুযোগ থাকা এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে প্রতিকার পাওয়ার পথ থাকা স্বচ্ছ প্রশাসনিক ব্যবস্থার অংশ।

বুশরার বিষয়টি তাই শুধু একজন প্রার্থীর ব্যক্তিগত বঞ্চনার প্রশ্ন নয়; এটি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, যাচাইয়ের মানদণ্ড এবং মেধার যথাযথ মূল্যায়ন নিয়ে বৃহত্তর জনআলোচনারও বিষয় হয়ে উঠেছে।

মেধাবী তরুণদের রাষ্ট্রের প্রতি আস্থা ধরে রাখতে হলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ন্যায়সংগত ও স্বচ্ছ আচরণ নিশ্চিত করা জরুরি। কোনো প্রার্থী প্রকৃতপক্ষে যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও অন্যায়ভাবে বঞ্চিত হয়ে থাকলে তার প্রতিকার যেমন প্রয়োজন, তেমনি কোনো বৈধ যাচাইয়ের কারণে বাদ পড়লে সেই কারণও স্পষ্টভাবে জানানো প্রয়োজন।

তাই বুশরা জাহান ঐশীর অভিযোগ ও গেজেটে নাম না থাকার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে স্বচ্ছভাবে পর্যালোচনা করা এবং প্রকৃত কারণ জনসমক্ষে স্পষ্ট করার দাবি উঠেছে। পুনর্বিবেচনায় তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ন্যায়সংগত সিদ্ধান্তই হতে পারে এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য পথ।