ইবিতে স্তন ক্যান্সার সচেতনতায় আলোচনা সভা ও গোলাপি শোভাযাত্রা
📷 ছবি: সংগৃহীত
ওসমান গণি, ইবি সংবাদদাতা:
‘স্ক্রিনিং জীবন বাঁচায়’ প্রতিপাদ্যে স্তন ক্যান্সার সচেতনতার মাস উপলক্ষে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ‘গোলাপী সড়ক শোভাযাত্রা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ক্যান্সার সচেতনতামূলক সংগঠন ক্যান্সার অ্যাওয়ারনেস প্রোগ্রাম ফর উইমেন (ক্যাপ)
এর উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
শোভাযাত্রাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আমবাগান থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে বাংলা মঞ্চে আলোচনা সভায় মিলিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সাধারণ শিক্ষার্থী এবং সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এসময় তারা স্তন ক্যান্সারের আগাম শনাক্তকরণ ও সচেতনতার বার্তাসংবলিত প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার বহন করেন।
শোভাযাত্রায় 'যদি ক্ষতির কারণ লজ্জা হয়, তাহলে আর লজ্জা নয়', 'সূচনায় পড়লে ধরা, স্তন ক্যান্সার যায় সারা', 'সবাই হলে সচেতন, ক্যান্সার রুখতে কতক্ষণ','আমাদের অঙ্গীকার, ক্যান্সারমুক্ত পরিবার', 'সময়মতো পরীক্ষা, জীবন রক্ষায় সুরক্ষা', 'লজ্জা দিয়ে ঢাকবে কত, ভুল ভাবনায় মরবে কত', ক্যাপ এর হুংকার, ট্যাবু ভেঙে ছারখার', 'লুকিয়ে রাখলে বাড়ে রোগ, জানলে পরেই প্রতিরোধ', 'তথ্য জানো মুক্ত থাকো, ক্যাপ এর সাথেই থাকো'- সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন তারা। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা মঞ্চ প্রাঙ্গণে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে সংগঠনটির সভাপতি জান্নাতুল মাওয়ার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মতিনুর রহমান, বিশেষ অতিথি উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. এমতাজ উদ্দিন ও কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. ইদ্রিস আলী উপস্থিত ছিলেন। এসময় সংগঠনের প্রতিনিধি ও বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, সঠিক সময়ে স্তন ক্যান্সার শনাক্ত করা এবং নিয়মিত স্ক্রিনিং করা গেলে অনেক জীবন রক্ষা করা সম্ভব। এ রোগ নিয়ে প্রচলিত সামাজিক লজ্জা, সংকোচ ও ভ্রান্ত ধারণা দূর করে সমাজের সর্বস্তরে সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান তারা।
ক্যাপের সভাপতি জান্নাতুল মাওয়া ইতি বলেন, “ক্যাপের মূল লক্ষ্য হলো নারীদের স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং ক্যান্সার সম্পর্কে সঠিক তথ্য সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে দেওয়া। এছাড়া মানুষের মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন তৈরি করা, বিভিন্ন সচেতনতামূলক আয়োজন, প্রচার-প্রচারণা, আলোচনা সভা এবং জনসম্পৃক্ত কার্যক্রমের মাধ্যমে ক্যান্সার সম্পর্কে ভুল ধারণা দূর করতে ও সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণে উৎসাহিত করতে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছি। ক্যান্সার সচেতনতার কার্যক্রম ক্যাম্পাসের গণ্ডি পেরিয়ে বৃহত্তর সমাজে পৌঁছে দিয়ে নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে চেষ্টা করে যাব।”
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য প্রফেসর ড. মতিনুর রহমান বলেন, ক্যান্সার প্রতিরোধ ও সচেতনতা তৈরিতে এটি নিঃসন্দেহে একটি মহৎ উদ্যোগ। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে বিশেষ করে নারীদের মাঝে যে সচেতনতা তৈরি হবে, তা ক্যান্সারের মতো মরণব্যাধি প্রতিরোধে বড় ভূমিকা রাখবে। এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম শুধু একটি অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে স্কুল-কলেজ থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে নারী শিক্ষার পাশাপাশি এ ধরনের সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি আয়োজকদের প্রতি এ ধারা অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানাচ্ছি।