সারাদেশ

সন্দেহ থেকে মামলা, এমপি নজরুলের সঙ্গে আপস মরিয়মের বাবার

সন্দেহ থেকে মামলা, এমপি নজরুলের সঙ্গে আপস মরিয়মের বাবার
📷 ছবি: সংগৃহীত
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলামের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে করা মামলায় আপস করেছেন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ। আপসনামায় আসামিদের জামিনে তার কোনো আপত্তি নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহর আদালতে আপসনামাটি দাখিল করেন মামলার বাদী এস এম মাসুম বিল্লাহ।

আদালতে তিনি জানান, গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলামের জামিনে তার কোনো আপত্তি নেই। শুনানি শেষে আদালত মাকসুদার জামিন মঞ্জুর করলেও গাজী নজরুলের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।

আপসনামার নথিতে বলা হয়েছে, মরিয়মের মৃত্যুর পর তার বাবার পক্ষ থেকে সন্দেহবশত মামলাটি করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজখবর নিয়ে তিনি নিশ্চিত হন, গাজী নজরুল ইসলাম বা তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদার কোনো প্ররোচনা কিংবা কার্যকলাপে রাগ বা অভিমানে মরিয়ম আত্মহত্যা করেননি। দুই পরিবারের মধ্যে আগে থেকেই আত্মীয়তার সম্পর্ক থাকায় উভয় পক্ষের সম্মতিতে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে আপসনামাটি করা হয়।

আপসনামায় আরও উল্লেখ করা হয়, গাজী নজরুল ইসলাম ও মাকসুদা ইসলাম আদালত থেকে জামিন পেলে বাদী বা তার পরিবারের কোনো আপত্তি থাকবে না। জামিনের পর উভয় পক্ষ সৌহার্দ্যপূর্ণ ও আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখবেন এবং বিচারাধীন বিষয়ে নিরপেক্ষ থেকে আদালতের কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবেন।

এর আগে ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন তার বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
মামলার পর গাজী নজরুল ইসলাম ও মাকসুদাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গাজী নজরুলের দুই দফায় মোট আট দিনের রিমান্ড শেষে ২৮ সেপ্টেম্বর আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

মামলার এজাহারে মরিয়মের বাবা অভিযোগ করেছিলেন, বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গাজী নজরুল ইসলাম ও মাকসুদা তার মেয়েকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। তবে পরবর্তী আপসনামায় বাদী জানান, তিনি সন্দেহের ভিত্তিতে মামলা করেছিলেন এবং পরে তাদের বিরুদ্ধে প্ররোচনার কোনো প্রমাণ পাননি।