সারাদেশ

ঝিনাইদহ জেলা পরিষদে নজিরবিহীন নিয়োগ বাণিজ্য: সুইপার পদেও মুসলিম যুবক, ৬ পদের সবই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ‘পারিবারিক ভাগাভাগি’

ঝিনাইদহ জেলা পরিষদে নজিরবিহীন নিয়োগ বাণিজ্য: সুইপার পদেও মুসলিম যুবক, ৬ পদের সবই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ‘পারিবারিক ভাগাভাগি’

ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ

ঝিনাইদহ জেলা পরিষদে ৬টি শূন্য পদের সবকটিতেই কাড়ি কাড়ি টাকা ও নজিরবিহীন স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে নিজস্ব সন্তান ও আত্মীয়স্বজনদের নিয়োগ দেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এই ‘পারিবারিক ভাগাভাগি’র ঘটনায় স্থানীয় সুশীল সমাজ ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
​সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে ‘সুইপার’ পদে। ধর্মীয় ও সামাজিক প্রথা ভেঙে এবং বিগত পাঁচ বছর ধরে বিনা বেতনে সেবা দেওয়া রণজিৎ কুমার নামের এক হরিজন পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে বাদ দিয়ে শেখ মোহাম্মদ হাম্মাত নামে এক মুসলিম যুবককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
​অনুসন্ধানে দেখা গেছে, স্বজনপ্রীতির সবচেয়ে বড় ভাগ বাগিয়ে নিয়েছেন জেলা পরিষদের সাঁটলিপিকার শেখ শফি উদ্দীন। ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি তাঁর ছেলে শেখ তামিম হাসানকে ‘কম্পিউটার অপারেটর’, ভাতিজা শেখ লোকমান হোসেন আপেলকে ‘উচ্চমান সহকারী’, শেখ কাকন হোসেনকে ‘পরিচ্ছন্নতাকর্মী’ এবং আরেক ভাতিজা শেখ মোহাম্মদ হাম্মাতকে ‘সুইপার’ পদে নিয়োগ দিয়েছেন। এছাড়া আগে থেকেই তাঁর ভাগ্নে শৈলকুপা ডাকবাংলোয় এবং ভাগ্নি-জামাই মহেশপুর ডাকবাংলোয় নৈশপ্রহরী পদে কর্মরত রয়েছেন। অসমর্থিত সূত্রে জানা গেছে, নিয়োগ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে প্রার্থীদের কাছ থেকে সংগৃহীত অর্থ কালীগঞ্জের তিনটি ব্যাংকে জমা করা হয়েছে।
​একইভাবে স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে নিজের ভাতিজা রাব্বুল হুসাইনকে ‘ইলেকট্রিশিয়ান’ পদে নিয়োগ দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানের হিসাবরক্ষক আলমগীর হোসেন। এছাড়া এমএলএসএস তোয়াজ উদ্দীনের ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুনকে ‘ডুপ্লিকেটিং অপারেটর’, জেলা পরিষদ প্রশাসকের ভাতিজা ফয়সাল আহম্মেদ নয়নকে ‘অফিস সহায়ক’ এবং কালীগঞ্জের আশিকুর রহমানকে ‘জিপ চালক’ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
​যোগাযোগ করা হলে স্বজনপ্রীতির বিষয়টি স্বীকার করলেও এ নিয়ে ফোনে কথা বলতে রাজি হননি হিসাবরক্ষক আলমগীর হোসেন। অন্যদিকে প্রশ্ন শুনে ক্ষিপ্ত হয়ে সাঁটলিপিকার শেখ শফি উদ্দীন ফোন কেটে দেন।
​তবে সার্বিক অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম রেজা দাবি করেন, “নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ বিধিমালা মানা হয়েছে। সুইপার পদে হরিজন সম্প্রদায়ের এক আবেদনকারী পরীক্ষায় অনুপস্থিত থাকায় বিকল্প প্রার্থী বাছাই করা হয়েছে।” নিয়োগপত্র ইস্যুর পরেই কেবল একই পরিবারের একাধিক সদস্যের বিষয়টি জানতে পেরেছেন বলে জানান তিনি।