শিক্ষা

‘রাজনৈতিক লোকজন আমার সঙ্গে আসুক, কিন্তু আমি তাঁদের পেছনে যাব না’

‘রাজনৈতিক লোকজন আমার সঙ্গে আসুক, কিন্তু আমি তাঁদের পেছনে যাব না’
📷 ছবি: সংগৃহীত

দলীয় রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে শিক্ষকদের হেনস্তার শিকার হতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান। তিনি বলেছেন, রাজনীতিকে বাদ দিয়ে নয়, বরং শিক্ষকদের ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রভাব মোকাবিলা করতে হবে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘শিক্ষকদের সামাজিক সুরক্ষা ও প্রভাবমুক্ত শিক্ষাঙ্গন গড়তে করণীয়’ শীর্ষক এ সভার আয়োজন করে বেসরকারি শিক্ষক অ্যালায়েন্স (বিএসএ)। অনুষ্ঠানটির প্রধান আলোচক হিসেবে নিয়াজ আহমেদ খানের উপস্থিতির তথ্য আয়োজকদের প্রকাশিত কর্মসূচিতেও রয়েছে।

নিয়াজ আহমেদ খান বলেন, ‘রাজনীতি আমাদের বারবার আশাহত করেছে। আমরা যারা দলীয় রাজনীতির বাইরে, আমরা রাজনীতির প্রতি বিরক্ত, বীতশ্রদ্ধ। কিন্তু সমাধান এই নয় যে আমি রাজনীতি ছাড়া চলব। বিরাজনীতিকরণও সমাধান নয়।’

তিনি বলেন, রাজনৈতিক ব্যক্তিরা যেন শিক্ষকদের সম্মান করেন, সেই পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এ জন্য শিক্ষকদের নিজেদের মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলা, পেশাগত দক্ষতা বাড়ানো এবং যার যে দক্ষতা রয়েছে, তাকে সেই অনুযায়ী দায়িত্ব দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই উপাচার্য বলেন, ‘আমাদের সমাজে ক্ষমতার মানে হচ্ছে আরেকজনকে ভয় দেখানো। এই মানসিকতা মোকাবিলা করার উপায় ঐক্যবদ্ধ থাকা। আমি রাজনীতিকে বাদ দিয়ে চলতে বলছি না। আমি বলছি রাজনৈতিক লোকজন আমার সঙ্গে আসুক, কিন্তু আমি তাঁর পেছনে যাব না।’

তিনি আরও বলেন, শিক্ষকদের মেরুদণ্ড শক্ত করে দাঁড়াতে হবে এবং সব পর্যায়ের শিক্ষককে একটি প্ল্যাটফর্মে থাকতে হবে।

নিয়াজ আহমেদ খান শিক্ষকদের পেশাগত উৎকর্ষের জন্য নিয়মিত পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণের ওপরও গুরুত্ব দেন। তাঁর মতে, শিক্ষকরা নিজেদের পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে পারলে তাঁদের সামাজিক মর্যাদাও আরও শক্ত ভিত্তি পাবে।

অবসরের তিন-চার মাসের মধ্যে পেনশন দেওয়ার দাবি

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন শিক্ষকদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার বিষয়টি তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, অধিকাংশ শিক্ষকের সংসার তাঁদের বেতনের ওপর নির্ভরশীল। অবসরে যাওয়ার পর সেই আয়ও বন্ধ হয়ে যায়। অথচ পেনশনের অর্থ পেতে তাঁদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়।

শিক্ষকেরা অবসরে যাওয়ার তিন থেকে চার মাসের মধ্যে যাতে তাঁদের প্রাপ্য পেনশনের অর্থ পান, সে ব্যবস্থা করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান আখতার হোসেন। এতে অবসরকালীন সময়ে শিক্ষকদের আর্থিক দুর্ভোগ কমবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে ভেরিফিকেশনের নামে প্রার্থী বাদ দেওয়ারও সমালোচনা করেন এনসিপির এই নেতা।

কওমি শিক্ষায় নজরদারির দাবি

আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মারদিয়া মমতাজ কওমি শিক্ষাব্যবস্থায় নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানান।

তিনি বলেন, কওমি ঘরানায় পর্যাপ্ত নজরদারি ও আলেমদের তত্ত্বাবধান না থাকায় বিভিন্ন ব্যক্তি নিজেদের মতো করে প্রতিষ্ঠান খুলছেন। এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ডের দায় পুরো শিক্ষাব্যবস্থার ওপর পড়ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জামায়াতপন্থী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংকের (ইউটিএল) সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন বলেন, অনেক শিক্ষক নেতা শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত না গিয়ে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত থাকেন। এতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত সম্পর্ক তৈরি হচ্ছে না।

বেসরকারি শিক্ষক অ্যালায়েন্সের আহ্বায়ক আবদুর রহমান রিজভীর সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক অ্যালায়েন্সের সদস্যসচিব শামীম হামিদী, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির মহাসচিব মো. জসিম উদ্দিন আহমেদ, অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ ফোরাম বাংলাদেশের মহাসচিব মো. আব্দুর রহমান, নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারী পরিষদের আহ্বায়ক শামিয়া জামান পান্নাসহ অন্যরা। সভাটি সঞ্চালনা করেন বিএসএর সদস্যসচিব সিরাজুল ইসলাম।