সারাদেশ

সোনারগাঁও দুই মাসে পুলিশের বিশেষ অভিযানে আট শতাধিক বিভিন্ন অপরাধী আটক,আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও অপরাধ দমনে প্রশংসনীয় ভুমিকা

সোনারগাঁও দুই মাসে পুলিশের বিশেষ অভিযানে আট শতাধিক বিভিন্ন অপরাধী আটক,আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও অপরাধ দমনে  প্রশংসনীয় ভুমিকা

স্টাফ রিপোর্টার :সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ)

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে পুলিশের তৎপরতা ও নিয়মিত টহলের ফলে ডাকাতির ঘটনা প্রায় হ্রাস পেয়েছে এবং আতঙ্ক অনেকটাই কমেছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় জনগন। তবে মহাসড়কে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও উপজেলার অভ্যন্তরীণ ও সংযোগ সড়কগুলোতে ডাকাতি, ছিনতাই ও মাদকসেবীদের উৎপাতের অভিযোগ রয়েছে। বিগত দুই মাসে পুলিশের বিশেষ অভিযানে মাদক কারবারি, মাদকসেবি, ডাকাত,চুরি,ছিনতাই,হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্তসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের আটকের পরও থেমে নেই কিশোেগ্যাং নামক কিছু উশৃংখল অবাধ্য উৎপাতসৃষ্টিকারী কিশোরের দৌরাত্ম্য।

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা এসব অভ্যান্তরীণ সড়কগুলোতে
পুলিশি নজরদারি ও টহল বা চেকপোস্ট কার্যক্রম পরিচালিত হলে অপরাধের ধারাবাহিকতা অনেকটা কমে যাবে।

এলাকাবাসীর মতে কাঁচপুর সেতু থেকে মেঘনা সেতু পর্যন্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের প্রায় ১৫ কিলো মিটার এলাকা জুড়ে প্রায়শই ডাকাতি কিংবা ছিনতাইয়ের মতো ঘটনার কারণে রাতের বেলায় চলাচল করতে গিয়ে আতঙ্কে থাকতেন চালক ও যাত্রীরা।

বিশেষ করে পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, দূরপাল্লার বাস ও প্রবাসীদের বহনকারী যানবাহনের চালকদের মধ্যে উদ্বেগ ছিল বেশি। তবে সম্প্রতি সোনারগাঁ থানা পুলিশ ও কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশের তৎপরতা বৃদ্ধি এবং নিয়মিত অভিযানের ফলে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এর আগে মাসিক আইনশৃঙ্খলা সভায় নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

সোনারগাঁ থানা পুলিশও নিয়মিত অভিযান চালিয়ে প্রতিদিন বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতার করা অব্যাহত রয়েছে। তবে মহাসড়কে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও উপজেলার বিভিন্ন শাখা ও সংযোগ সড়কে এখনো উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় নির্জন সড়ক দিয়ে চলাচলকারী চালক, যাত্রী ও সাধারণ মানুষ ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের আশঙ্কা করছেন।

স্থানীয়দের মতে, মহাসড়কে পুলিশের নিয়মিত টহল ও নজরদারি বাড়ানোর সুফল পাওয়া যাচ্ছে। মহাসড়কে ডাকাতির মতো ঘটনা হ্রাস পেলেও রাত ১০- ১১ টার পর উপজেলার আভ্যন্তরীণ সড়কে সাধারণ চলাচল করা অটোরিকশা, সিএনজি তেমন একটা পাওয়া যায় না ছিনতাইয়ের ভয়ে।

একইভাবে উপজেলার অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতেও টহল বাড়ানো হলে অপরাধীদের তৎপরতা আরও কমানো সম্ভব হবে। এ জন্য অপরাধপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে বিশেষ নজরদারি ও রাতের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
সোনারগাঁয়ের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সোনারগাঁ থানা পুলিশ, কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশ ও তালতলা তদন্তকেন্দ্রের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো প্রয়োজন। পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও কার্যকর করা যেতে পারে।

সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল বারিক বলেন, ‘চলতি বছরের ২১ আগস্ট সোনারগাঁ থানায় যোগদান করার পর নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় অপরাধ দমনে থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ পর্যন্ত ৩০ জন ডাকাতসহ মাদক বিক্রেতা, মাদকসেবী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা হত্যা মামলার আসামি, পরোয়ানাভুক্ত আসামি ও বিভিন্ন অপরাধে জড়িত প্রায় ৮০০শর অধিক অপরাধীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে।।
তিনি আরও বলেন, সোনারগাঁয়ের শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, মহাসড়কে নিরাপত্তা পরিস্থিতির যে উন্নতি হয়েছে, তা ধরে রাখার পাশাপাশি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ শাখা সড়কগুলোতেও পুলিশের নিয়মিত টহল ও নজরদারি বাড়ানো হবে। এতে সাধারণ মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত হবে।