সারাদেশ

সেনবাগে ৩৪ বছরের শিক্ষকতা শেষে গিয়াস উদ্দিন স্যারকে অশ্রুসিক্ত বিদায়

সেনবাগে ৩৪ বছরের শিক্ষকতা শেষে গিয়াস উদ্দিন স্যারকে অশ্রুসিক্ত বিদায়

ফুলেল শুভেচ্ছা, সম্মাননা স্মারক ও ফুলে সাজানো গাড়িতে প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানালেন সহকর্মী-শিক্ষার্থীরা

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার বাবুপুর শ্রীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. গিয়াস উদ্দিনের ৩৪ বছরের শিক্ষকতা জীবনের অবসান হয়েছে। দীর্ঘ কর্মজীবনের ইতি টেনে অবসরে যাওয়ায় তাঁকে বর্ণাঢ্য ও আবেগঘন আয়োজনে বিদায় সংবর্ধনা দিয়েছেন সহকর্মী, শিক্ষার্থী, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ফুলেল শুভেচ্ছা, সম্মাননা স্মারক প্রদান এবং ফুলে সাজানো গাড়িতে বিদায়ের মধ্য দিয়ে প্রিয় শিক্ষককে সম্মান জানানো হয়। এ সময় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সৃষ্টি হয় আবেগঘন পরিবেশ।

দীর্ঘ ৩৪ বছরের কর্মজীবনে মো. গিয়াস উদ্দিন শিক্ষার্থীদের পাঠদান, নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বিদ্যালয়ের বাঁশের ঘর থেকে পাকা ভবনে রূপান্তরের দীর্ঘ পথচলার নানা স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে তাঁর কর্মময় জীবনের অধ্যায়। তাঁর দায়িত্বশীলতা, আন্তরিকতা ও শিক্ষার্থীদের প্রতি স্নেহের কথা স্মরণ করে সহকর্মী ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সেনবাগ উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. ওয়াহিদুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন ৩ নম্বর ডমুরুয়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মো. জসিম উদ্দিন, সদস্য সচিব মো. ওমর ফারুক এবং গাজীরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মাস্টার মীর হোসেন।

বাবুপুর শ্রীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি আবদুল বাতেন ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক সুমন মাহমুদ।

বক্তারা বলেন, একজন আদর্শ শিক্ষক কেবল পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান বিতরণ করেন না; তিনি শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, মানবিকতা ও দায়িত্ববোধ জাগ্রত করার পাশাপাশি তাদের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। মো. গিয়াস উদ্দিন তাঁর দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে যে নিষ্ঠা, দায়িত্বশীলতা ও আন্তরিকতার পরিচয় দিয়েছেন, তা সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা ও আদর্শ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে বলেও তাঁরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিদায় অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত ছিল ফুলে সাজানো গাড়িতে প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানানোর দৃশ্য। ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা স্মারক গ্রহণের সময় সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের ভালোবাসায় সিক্ত হন তিনি। দীর্ঘদিনের কর্মস্থল ছেড়ে যাওয়ার মুহূর্তে অনেকের স্মৃতিচারণ ও আবেগঘন উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে স্মরণীয় করে তোলে।

৩৪ বছরের শিক্ষকতা জীবনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটলেও শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া জ্ঞান, আদর্শ ও মূল্যবোধের মধ্য দিয়ে মো. গিয়াস উদ্দিন স্যার স্মরণীয় হয়ে থাকবেন—এমন প্রত্যাশা উপস্থিত সবার। তাঁরা তাঁর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও অবসরজীবনের সুখ, শান্তি ও কল্যাণ কামনা করেন।