খুলনা -কুষ্টিয়া মহাসড়কে 'সময়ের বেড়াজাল'গড়াইও রুপসা পরিবহনের বেপরোয়া গতিতে সড়কে ঝরছে তাজা প্রাণ
দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথ খুলনা-যশোর-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া মহাসড়ক। এই মহাসড়কে চলাচলকারী রূপসা ও গড়াই পরিবহনের বেপরোয়া গতি এবং চালকদের প্রতিযোগিতামূলক মনোভাবের কারণে মহাসড়কটি যেন দিন দিন 'মৃত্যুফাঁদে' পরিণত হচ্ছে। প্রতিনিয়তই এই দুই পরিবহনের বাসের ধাক্কা বা নিয়ন্ত্রণে হারানোর কারণে প্রাণ হারাচ্ছেন সাধারণ পথচারী ও যাত্রীরা।
মূল কারণ: মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের তৈরি 'সময় আইন'
অনুসন্ধানে দেখা যায়, এই মহাসড়কে দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়নের বেধে দেওয়া তথাকথিত 'সময় আইন'।
নির্দিষ্ট সময়সীমা: খুলনা, যশোর, কালীগঞ্জ, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়া স্টপগুলোর মাঝে চলাচলের জন্য বাস চালকদের অত্যন্ত কম ও নির্দিষ্ট সময় মেপে দেওয়া হয়।
জরিমানা ও শাস্তির ভয়: নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরবর্তী স্টপেজে পৌঁছাতে না পারলে চালক ও সহকারীকে অর্থনৈতিক জরিমানা বা ট্রিপ বাতিলের মতো শাস্তির মুখে পড়তে হয়।
স্ট্যান্ডে অতিরিক্ত সময় ব্যয়: বিভিন্ন পয়েন্টে অতিরিক্ত যাত্রী ওঠানো-নামানোর জন্য বাসগুলো অতিরিক্ত সময় নষ্ট করে। এরপর সেই নষ্ট হওয়া সময় মেকআপ করতে পথিমধ্যে ৭০ থেকে ৯০ কিলোমিটার বা তারও বেশি বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাতে বাধ্য হন চালকেরা
ওভারটেকিং ও গতির প্রতিযোগিতা
গড়াই ও রূপসা পরিবহনের মধ্যে কোনটি কার আগে গন্তব্যে পৌঁছাবে—এই প্রতিযোগিতা নিয়মিত দৃশ্যে পরিণত হয়েছে। সরু মহাসড়ক, মোড় এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নিয়মবহির্ভূত ওভারটেকিং করতে গিয়েই সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটছে। এর ওপর মহাসড়কে চলাচলকারী অবৈধ থ্রি-হুইলার ও নসিমন-করিমনের উপস্থিতিতে দ্রুতগতির বাস ব্রেক করতে না পেরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলছে।
স্থানীয় ও যাত্রীদের ক্ষোভ
সাধারণ যাত্রীরা গড়াই ও রূপসা পরিবহনকে 'গতির দানব' হিসেবে উল্লেখ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। যাত্রী ও স্থানীয় বাসাবাড়ির মানুষদের ভাষ্য—"জরুরি প্রয়োজন ছাড়া এই বাসে ওঠা যেন জীবনের ঝুঁকি নেওয়া।"
আইন প্রয়োগ ও প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের অভাব
সড়ক পরিবহন আইন থাকলেও এই রুটে স্পিড গভর্নিং সিল (Speed Governor) বা গতি নিয়ন্ত্রক যন্ত্র ব্যবহারের কঠোর প্রয়োগ দেখা যায় না। হাইওয়ে পুলিশ ও ট্রাফিক বিভাগের অভিযান সাময়িক হলেও সিন্ডিকেটের বেধে দেওয়া সময়ের নিয়ম বন্ধ না হওয়ায় গতির দাপট কমছে না।
স্থায়ী সমাধানের দাবি
দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি রোধে স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও যাত্রীদের প্রধান দাবিগুলো হলো:
বাস মালিক ও শ্রমিক সমিতি কর্তৃক চালকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া ক্ষতিকর 'সময় আইন' বাতিল করা।
সকল গণপরিবহনে স্পিড গভর্নর বা সর্বোচ্চ গতিসীমা (যেমন: ৪৫-৬০ কিমি/ঘণ্টা) নিশ্চিত করা।
হাইওয়ে পুলিশের গতি মাপক যন্ত্র (Speed Gun) ব্যবহার করে বেপরোয়া চালকদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা ও লাইসেন্স বাতিল করা।
. মহাসড়কের সরু ও ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলো প্রশস্ত করা।