সারাদেশ

রনি হত্যা: পরিকল্পনাকারীদের গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি পরিবারের

রনি হত্যা: পরিকল্পনাকারীদের গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি পরিবারের
📷 ছবি: সংগৃহীত
রনি হত্যা: পরিকল্পনাকারীদের গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি পরিবারের

মোহাম্মদ উল্যা
বিশেষ প্রতিনিধি
কোম্পানীগঞ্জ, নোয়াখালী।

নোয়াখালীর কবিরহাটে মৎস্য খামারি ও যুবদলের সক্রিয় কর্মী মিজানুর রহমান রনি হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে পরিকল্পনাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছে নিহতের পরিবার। এ ঘটনায় কবিরহাট উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মো. আব্দুল বাছেত হিরন ও নরোত্তমপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক মাসুদসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে পরিবার। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে নোয়াখালী জেলা শহর মাইজদীর টাউন হল মোড়ের একটি দৈনিক পত্রিকার কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নিহত রনির পরিবারের সদস্যরা এসব অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে নিহতের মা লাইলী বেগম, স্ত্রী সীমা আক্তার, মামা মোশারেফ হোসেন ও বোন শ্রাবণী আক্তার বক্তব্য দেন।

নিহতের পরিবার ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মিজানুর রহমান রনি কবিরহাট উপজেলার নরোত্তমপুর ইউনিয়নের কালিরহাট বাজার এলাকার মৃত মো. শহিদ উল্যার ছেলে। তিনি মাছের প্রজেক্ট ও মুরগির খামারের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পাশাপাশি স্থানীয় যুবদলের সক্রিয় কর্মী হিসেবে রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।

পরিবারের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব, ফসলি জমির মাটি বিক্রি এবং জমি-জমা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে রনির বিরোধ সৃষ্টি হয়। তাদের ভাষ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক মামলায় রনি কারাগারে ছিলেন। ৫ আগস্টের পর তিনি কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে এলাকায় ফিরে আসেন।

পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, রনি এলাকায় ফিরে আসার পর স্থানীয় একটি পক্ষ বিএনপির নাম ব্যবহার করে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাটি কাটা ও সালিশ-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অনিয়মে জড়িয়ে পড়ার প্রতিবাদ করেন। এ নিয়ে হিরন, মাসুদসহ কয়েকজনের সঙ্গে তার বিরোধ তীব্র হয় বলে পরিবারের দাবি।

সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়, স্থানীয় বিএনপি কার্যালয়ে কথিত ‘হাইব্রিড বিএনপি’র বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়ায় রনির ওপর ওই পক্ষ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। এর জেরে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে দাবি পরিবারের।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১০ জানুয়ারি জমি নিয়ে বিরোধের জেরে রনির শ্বশুর ও শ্যালক আরাফাত হোসেন ওরফে জামালের সঙ্গে একই এলাকার নূর মোহাম্মদ ওরফে বাচ্ছুর বিরোধ হয়। পরে বিরোধ মীমাংসার কথা বলে ডেকে নিয়ে তাদের মারধর করা হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় রনির সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরোধ আরও বাড়ে বলে দাবি করা হয়।

পরিবার জানায়, ১৭ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৬টার দিকে মাছের প্রজেক্টের কাজের কথা বলে অজ্ঞাতনামা দুই ব্যক্তি রনিকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। ওই রাত ৯টা ৫৯ মিনিটের দিকে রনির ভায়রা আবু তাহেরকে এনামুল হক মাসুদ ফোন করে হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করা হয়। রনিকে যেতে বাধা দেওয়া হলে তাকে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি পরিবারের।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, পূর্ববিরোধ ও রাজনৈতিক বিরোধের জেরেই রনিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তারা হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন, পরিকল্পনাকারী ও সরাসরি জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা এবং আদালতের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।

পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, একজন মৎস্য খামারি ও যুবদল কর্মী হিসেবে রনির নিজস্ব ব্যবসা ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে যে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছিল, সেটিই শেষ পর্যন্ত তার প্রাণহানির কারণ হয়েছে কি না—তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করা প্রয়োজন।

তাদের দাবি, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক, রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনায় না নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে হত্যার নেপথ্যের পরিকল্পনাকারীদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান তারা।

এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বক্তব্য এবং অভিযুক্তদের প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।