শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, আদর্শিক নেতৃত্ব গঠন এবং বর্তমান প্রেক্ষাপটে শ্রমিক আন্দোলনকে কার্যকর ও গতিশীল করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) চট্টগ্রাম বন্দর শহীদ মুন্সি ফজলুর রহমান অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগর আয়োজিত থানা ও সেক্টর কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের দিনব্যাপী নেতৃত্ব উন্নয়ন শিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহসাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি এস এম লুৎফর রহমানের সভাপতিত্বে এ শিবির অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগর আমির নজরুল ইসলাম, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মজিবুর রহমান ভূঁইয়া, জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও মহানগর সেক্রেটারি অধ্যক্ষ নুরুল আমিন, কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও মহানগর সহকারী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা খায়রুল বাশার, মহানগর সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মদ শামসুজ্জামান হেলালী এবং কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, চট্টগ্রামের শ্রম পরিদর্শক শুভংকর দত্ত।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে শ্রমজীবী মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠার কার্যকর মাধ্যম হিসেবে শ্রমিক আন্দোলনকে গড়ে তুলতে হবে। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায়, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শোষণ-বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা পালনে সংগঠিত শ্রমিক আন্দোলনের বিকল্প নেই। এ জন্য দায়িত্বশীলদের সাংগঠনিক দক্ষতা, নেতৃত্বের যোগ্যতা ও দূরদর্শিতা অর্জনের পাশাপাশি শ্রমিকদের বাস্তব সমস্যা অনুধাবন করে তা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, শ্রমিক আন্দোলনকে আদর্শিক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। দায়িত্বশীলদের সততা, নিষ্ঠা, ত্যাগ ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে শ্রমিকদের আস্থা অর্জন করতে হবে। শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের পাশাপাশি তাঁদের নৈতিক ও আদর্শিক মানোন্নয়নেও কাজ করতে হবে। যোগ্য নেতৃত্ব, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও শ্রমিকদের ঐক্য সুদৃঢ় করার মাধ্যমে আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, শ্রমিকদের মধ্যে আদর্শের প্রচার করতে হলে দায়িত্বশীলদের নিজেদের জীবন ও কর্মে তার প্রতিফলন ঘটাতে হবে। শ্রমিকদের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলে তাঁদের সমস্যা, অধিকার ও প্রত্যাশার কথা জানতে হবে। সদাচরণ, সততা ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে শ্রমিকদের কাছে আদর্শ তুলে ধরতে হবে।
অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন, প্রত্যাশিত শ্রমিক নেতৃত্ব হতে হবে সৎ, দক্ষ, যোগ্য, ত্যাগী ও শ্রমিকবান্ধব। শ্রমিকদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্বকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। অন্যায়-অবিচার ও শোষণের বিরুদ্ধে আপসহীন থেকে শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ করতে হবে।
মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, চট্টগ্রাম দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও বাণিজ্যিক অঞ্চল। এ অঞ্চলের শ্রমিকদের অধিকার, নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে শক্তিশালী, সুশৃঙ্খল ও আদর্শিক শ্রমিক আন্দোলন গড়ে তোলা প্রয়োজন। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায় এবং জীবনমান উন্নয়নে দায়িত্বশীলদের কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
লিডারশিপ ক্যাম্পে উপস্থিত ছিলেন ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগরের সহসভাপতি নজির হোসেন ও মকবুল আহমদ ভূঁইয়া, বিআরআইএলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম মজুমদার, সহসাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার শিহাব উল্লাহ ও আসাদ উল্লাহ আদিল, রোকেয়া বেগম চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মদ হামিদুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুন্নবী, দপ্তর সম্পাদক স.ম. শামীম, ট্রেড ইউনিয়ন সম্পাদক মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম এবং পাঠাগার সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার সাইফুল ইসলাম।
দিনব্যাপী এ শিবিরে মহানগর, থানা, সেক্টর, মহিলা বিভাগ ও ট্রেড ইউনিয়নের বিভিন্ন পর্যায়ের শ্রমিক নেতারা প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নেন।
শ্রমিক আন্দোলনকে অধিকারভিত্তিক ধারায় এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান গোলাম পরওয়ারের