বাংলাদেশ

সোনাইমুড়ী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ, ভোগান্তিতে সেবাগ্রহীতা

সোনাইমুড়ী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ, ভোগান্তিতে সেবাগ্রহীতা
📷 ছবি: সংগৃহীত


মোহাম্মদ উল্যা

বিশেষ প্রতিনিধি

কোম্পানীগঞ্জ, নোয়াখালী

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সরকারি নির্ধারিত ফি’র বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, দলিল নিবন্ধনে হয়রানি এবং নকল পেতে দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগ উঠেছে। কয়েকজন সেবাগ্রহীতা ও ভুক্তভোগী এসব অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগকারীদের দাবি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও সরকারি ফি পরিশোধের পরও বিভিন্ন ধরনের দলিল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়। চাহিদামতো অর্থ দিতে অনাগ্রহী হলে কাগজপত্রে ত্রুটি দেখিয়ে দলিল ফেরত দেওয়া বা নিবন্ধন প্রক্রিয়া বিলম্বিত করার অভিযোগও রয়েছে।

সেবাগ্রহীতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাধারণ দলিল নিবন্ধনে সরকারি ফি’র বাইরে দলিলপ্রতি প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়। আমমোক্তারনামা, দানপত্র, হেবা ঘোষণা ও কমিশন দলিলসহ বিভিন্ন দলিলের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এ অর্থের পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

এ ছাড়া দলিলের নকল তুলতেও সরকারি ফির অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সেবাগ্রহীতাদের দাবি, সরকারি ফি পরিশোধের পরও নকল সংগ্রহে অতিরিক্ত অর্থ দিতে হয় এবং অনেক সময় আবেদন করার পরও দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে দুই থেকে তিন মাস পর্যন্ত নকল পেতে বিলম্বের অভিযোগ করেছেন তারা।

বিনিময়, বণ্টননামা ও অসিয়ত দলিলসহ বিভিন্ন ধরনের দলিলের ক্ষেত্রেও সরকারি ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ করেছেন কয়েকজন সেবাগ্রহীতা।

অভিযোগকারীদের আরও দাবি, জমির মূল্য নির্ধারণ ও দলিল নিবন্ধনের ক্ষেত্রেও অনিয়মের সুযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে বলে মনে করছেন তারা।

তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এসব অভিযোগের বিষয়ে সোনাইমুড়ী সাব-রেজিস্ট্রার সিরাজুল হকের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তাঁর কার্যালয়ে গিয়েও বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, সরকারি নির্ধারিত ফি, সেবার সময়সীমা ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া স্পষ্টভাবে প্রদর্শন এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।