নওগাঁর আত্রাইয়ে ৩ কোটি টাকার সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের খোয়া এলজিইডির নির্দেশ উপেক্ষা করে সাববেইজের কাজ শেষ করার অভিযোগ।
📷 ছবি: সংগৃহীত
নওগাঁ প্রতিনিধি:
নওগাঁর আত্রাইয়ে প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে সড়ক নির্মাণকাজে নিম্নমানের খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের পর নিম্নমানের খোয়া অপসারণ করে নির্ধারিত মানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চিঠিও দেওয়া হয়েছে। তবে এলজিইডির নির্দেশনা উপেক্ষা করে নিম্নমানের খোয়া দিয়েই নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, আত্রাই উপজেলার সিদ্ধেশ্বরী মোড় থেকে মিঠাপুর পর্যন্ত প্রায় ২ দশমিক ৩ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় সড়কটির নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। এরই মধ্যে মিঠাপুর থেকে দরগাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত অংশে নিম্নমানের খোয়া দিয়ে সাববেইজের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সড়ক নির্মাণের শুরু থেকেই ব্যবহৃত খোয়ার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রকল্পের নির্ধারিত স্পেসিফিকেশন ও নির্মাণনীতিমালা অনুযায়ী উপকরণ ব্যবহারের কথা থাকলেও বাস্তবে নিম্নমানের খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে সরকারি অর্থ ব্যয় হলেও নির্মাণ শেষে সড়কটির স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
অভিযোগের পর বিষয়টি নজরে আসে উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়, এলজিইডির। এরপর নির্মাণকাজে ব্যবহৃত নিম্নমানের খোয়া সরিয়ে নির্ধারিত মানের খোয়া ব্যবহারের জন্য সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু সেই নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ না করে নিম্নমানের খোয়া দিয়েই সাববেইজের কাজ এগিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এলজিইডির নির্দেশনার পরও নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করে কাজ চালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। তাদের দাবি, সরকারি অর্থে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। পাশাপাশি ইতোমধ্যে নিম্নমানের খোয়া দিয়ে সম্পন্ন করা অংশের কাজ পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, প্রকৌশল বিভাগের পক্ষ থেকে নিম্নমানের খোয়া অপসারণের নির্দেশ দেওয়ার পরও কীভাবে একই উপকরণ দিয়ে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়া হলো। এতে প্রকল্পের তদারকি ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সড়ক নির্মাণকাজে সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার এবং নির্ধারিত মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।