সারাদেশ

‎ইউরিয়া, টিএসপি সংকটে কয়রার কৃষক; আমন আবাদে হুমকি

‎ইউরিয়া, টিএসপি সংকটে কয়রার কৃষক; আমন আবাদে হুমকি
📷 ছবি: সংগৃহীত
‎ইউরিয়া, টিএসপি সংকটে কয়রার কৃষক; আমন আবাদে হুমকি
‎============
‎এসকে এম মহসিন রেজা
‎উপজেলা প্রতিনিধি (খুলনা)

‎আমনের ভরা মৌসুমে খুলনার কয়রা উপজেলায় কৃষকের মুখে এখন শুধু হতাশার ছাপ। মাঠে ধান রোপণের সময়, অথচ হাটে-বাজারে নেই ইউরিয়া ও টিএসপি সার। প্রয়োজনীয় সারের অভাবে কপালে ভাঁজ পড়েছে উপকূলের কৃষকের।

‎সরেজমিনে কয়রা বাজার, ফুলতলা, নারানপুর বাজার, ভান্ডারপোল ,গিলাবাড়ি ও আমাদী বাজার ঘুরে দেখা যায়, সারের জন্য দোকান থেকে দোকানে ছুটছেন কৃষক। কোথাও সার নেই, কোথাও বা চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগও উঠেছে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে।

‎গিলাবাড়ি বাজারে সার কিনতে আসা কৃষকরা ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, চাহিদা অনুযায়ী ইউরিয়া পাওয়া যাচ্ছে না। পেলেও দ্বিগুণ দাম গুনতে হচ্ছে। টিএসপির সংকট আরও ভয়াবহ।

‎খান সাহেব কোমরউদ্দীন ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক ও কৃষক আশরাফুল আলমের কণ্ঠে হতাশা, গত তিন দিন ধরে আমি নিজে ইউনিয়নের সার ডিলার ও ওয়ার্ডের সাব-ডিলারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে হয়রান হয়েছি। শুধু আমি নই, আমার মতো শত শত কৃষকের একই অবস্থা। ১০-১৫ বিঘা জমিতে ধান লাগিয়েছি, অথচ সার দিচ্ছে মাত্র ১০-২০ কেজি। এই সার দিয়ে কি ফসল হবে?

‎কৃষকদের অভিযোগ, প্রয়োজনের তুলনায় কম সার পাওয়ায় সময়মতো জমিতে সার প্রয়োগ করতে পারছেন না তারা। ফলে আসন্ন আমন ধানের ফলন নিয়ে দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা।

‎এ বিষয়ে কয়রা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তিলক ঘোষ বলেন, তিনি গিলাবাড়ি বাজারে সরেজমিন তদন্ত করেছেন। বেশি দামে সার বিক্রির সত্যতা পাননি বলে দাবি করেন তিনি। তবে মাঠ পর্যায়ের চিত্রের সঙ্গে কৃষি বিভাগের বক্তব্যের মিল পাচ্ছেন না কৃষকরা।

‎সার সংকট ও কালোবাজারি রোধে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন কয়রার কৃষকরা। অন্যথায় আমন আবাদ মুখ থুবড়ে পড়বে এবং উপকূলের খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা তাদের।