সারাদেশ

নোয়াখালীতে অটোরিকশার গ্যারেজে ইয়াবা ও পাইপগান উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৩

নোয়াখালীতে অটোরিকশার গ্যারেজে ইয়াবা ও পাইপগান উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৩

মোহাম্মদ উল্যা
বিশেষ প্রতিনিধি

কোম্পানীগঞ্জ, নোয়াখালী।

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় অটোরিকশার একটি গ্যারেজে যৌথ অভিযান চালিয়ে ৪৪ পিস ইয়াবা, একটি দেশীয় ওয়ান শুটার পাইপগান ও একটি কার্তুজসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি), র‍্যাব-১১ ও পুলিশ। অভিযানে তিনটি মুঠোফোন এবং ইয়াবা সেবনের সরঞ্জামও উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া গ্যারেজের বিশ্রামকক্ষে স্থাপন করা তিনটি সিসিটিভি ক্যামেরার সন্ধান পাওয়া যায়।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে সদর উপজেলার এওজবালিয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব এওজবালিয়া গ্রামের মামুন উর রশিদের অটোরিকশার গ্যারেজে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—পূর্ব এওজবালিয়া গ্রামের মৃত ইউছুপ মিয়ার ছেলে মামুন উর রশিদ (৩৭), করমুল্যা বাজার এলাকার আব্দুল হানিফের ছেলে আব্দুল মন্নান (২৭) এবং দাদপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বারাইপুর গ্রামের খলিফা বাড়ির মফিজুর রহমানের ছেলে মানজুর রহমান সাকিল (৩৮)।

ডিএনসির নোয়াখালী জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিএনসির উপপরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান, র‍্যাব-১১-এর সিপিসি-৩ নোয়াখালী ক্যাম্পের ডিএডি অমলেশ বাইন এবং সুধারাম মডেল থানার উপপরিদর্শক সুমন বণিকের নেতৃত্বে তিন বাহিনীর সদস্যরা যৌথ অভিযান চালান।

অভিযানকালে গ্যারেজের ভেতরে হার্ডবোর্ডের পার্টিশন দিয়ে তৈরি একটি বিশ্রামকক্ষের খাটের ওপর থেকে ৪৪ পিস ইয়াবা, একটি দেশীয় ওয়ান শুটার পাইপগান ও একটি সীসার কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। একই স্থান থেকে তিনটি মুঠোফোন ও ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।

ডিএনসির ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্যারেজের ওই বিশ্রামকক্ষটি ইয়াবা সেবনের কাজে ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে সেখানে আইপি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছিল বলেও প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এ ছাড়া এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের উদ্দেশ্যে পাইপগান ও কার্তুজ সংগ্রহ করে রাখা হয়েছিল বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

ডিএনসির নোয়াখালী জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক সুব্রত সরকার শুভ জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এবং অস্ত্র আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

এ ঘটনায় মাদক সেবন ও অবৈধ অস্ত্রের সম্ভাব্য ব্যবহার নিয়ে এলাকায় উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রমাণিত হতে হবে।