চাঁদা না দেওয়ায় ‘মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা’: সেনবাগে যুবকের থানায় অভিযোগ
মোহাম্মদ উল্যা
বিশেষ প্রতিনিধি:
কোম্পানীগঞ্জ, নোয়াখালী।
নোয়াখালীর সেনবাগে চাঁদা দাবি, মারধর, হয়রানি ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মো. কাজিম উদ্দিন জনি (২৮) নামে এক যুবক। অভিযোগে নিজের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
রোববার (৪ অক্টোবর) সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর দেওয়া লিখিত অভিযোগে উপজেলার ২ নম্বর কেশারপাড় ইউনিয়নের লুধুয়া গ্রামের আলা উদ্দিন ওরফে হুরি আলা উদ্দিনসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কাজিম উদ্দিন জনি পেশায় কাভারভ্যান চালক। তার দুটি কাভারভ্যানের মধ্যে একটি ছোট ভাইয়ের কাছে বিক্রি করেছেন এবং অপরটি অন্য একজন চালকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। বিদেশ যাওয়ার প্রস্তুতির কারণে বর্তমানে তিনি বাড়িতে অবস্থান করছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
কাজিম উদ্দিনের অভিযোগ, বাড়িতে ফেরার পর অভিযুক্তদের একজন তার কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। দাবিকৃত টাকা না দেওয়ায় তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হয়।
লিখিত অভিযোগে তিনি আরও দাবি করেন, এর আগে গাজীরহাট মোড়ে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে ঘিরে ধরে তার পকেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেন। ওই ঘটনায় তিনি প্রায় ২২ দিন কারাগারে ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন। জামিনে মুক্ত হয়ে বাড়ি ফেরার পরও তাকে নানাভাবে হুমকি ও হয়রানি করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, এক রাতে লুধুয়া পশ্চিমপাড়ার বারিক মাওলার বাড়ির সামনে এক ব্যক্তিকে চোর সন্দেহে কয়েকজন আটক করে মারধর করেন। পরে ওই ব্যক্তিকে দিয়ে জোরপূর্বক তার নাম বলানো হয় এবং তাকে চুরির সঙ্গে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন কাজিম উদ্দিন।
এরপর অভিযুক্তরা তাকে বাড়ির সামনের একটি দোকান থেকে মারধর করতে করতে রাস্তায় নিয়ে যান এবং লুধুয়া মধুর পুকুরপাড় এলাকার একটি মাদ্রাসার দ্বিতীয় তলায় নিয়ে যান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে একটি কক্ষে আটকে রেখে লোহার রড, কাঠের চেলা, বৈদ্যুতিক ফ্লাস, কিল-ঘুষি ও লাথি দিয়ে মারধরের অভিযোগ করেছেন তিনি। এতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফুলা ও রক্তাক্ত জখম হয়েছে বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়।
কাজিম উদ্দিনের ভাষ্য, প্রায় এক ঘণ্টা মারধরের পর পুলিশকে খবর দেওয়া হয় এবং পরে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরদিন তাকে আদালতে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি বাড়িতে ফেরেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন।
জামিনে ফেরার পর অভিযুক্ত পক্ষের একজনের মাধ্যমে আপস-মীমাংসার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি। তবে নিজের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে জানান।
রোববার বিকেলে সেনবাগ বাজারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনেও কাজিম উদ্দিন জনি অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন। তিনি নিজের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার এবং অভিযোগের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এদিকে, নতুন করে হয়রানি বা ক্ষতির আশঙ্কা করছেন দাবি করে নিজের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও অনুরোধ করেছেন তিনি।
এ বিষয়ে সেনবাগ থানার পুলিশের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগে উত্থাপিত চাঁদা দাবি, মারধর, হয়রানি ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগের সত্যতা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে। অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।
চাঁদা না দেওয়ায় ‘মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা’: সেনবাগে যুবকের থানায় অভিযোগ
📷 ছবি: সংগৃহীত