চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুই মাসের শিশুর মৃত্যু, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে ভাঙচুর
মোহাম্মদ উল্যা
বিশেষ প্রতিনিধি:
কোম্পানীগঞ্জ, নোয়াখালী।
নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফাতেমা হাসান রিমি নামে দুই মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসায় অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলে ক্ষুব্ধ স্বজনেরা হাসপাতালের ভেতরে ও বাইরে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
সোমবার (৫ অক্টোবর) রাতের দিকে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে চাটখিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজানুর রহমান ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মোন্নাফ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
নিহত ফাতেমা হাসান রিমি উপজেলার হাটপুকুরিয়া ঘাটলাবাগ ইউনিয়নের বক্তারপুর মুন্সিমিয়া চৌকিদার বাড়ির রবিউল হাসান ও উম্মে সালমা দম্পতির সন্তান।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, সোমবার দুপুর ২টার দিকে অসুস্থ শিশুটিকে চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। শিশুটি হামে আক্রান্ত—এমন একটি রিপোর্টও কর্তব্যরত চিকিৎসককে দেখানো হয়। পরে কর্তব্যরত নার্স শিশুটিকে ইনজেকশন ও স্যালাইন দেন। এর কিছুক্ষণ পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। একপর্যায়ে শিশুটির জন্য অক্সিজেন প্রয়োজন হলে হাসপাতালে অক্সিজেন নেই বলে জানানো হয়। রাত ৮টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়।
শিশুটির মা উম্মে সালমা অভিযোগ করে বলেন, চিকিৎসক ও নার্সের ভুল চিকিৎসা এবং অবহেলার কারণেই তার মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। তবে পরিবারের এ অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের আগে চিকিৎসাগতভাবে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
শিশুটির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজনেরা ক্ষুব্ধ হয়ে হাসপাতালে ভাঙচুর চালান বলে স্থানীয়রা জানান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং শিশুটির সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। ইউএনও ও ওসি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
তবে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শাহরিন আক্তার। তিনি বলেন, শিশুটি গত এক মাস ধরে অসুস্থ ছিল এবং বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়। সেখানে শিশুটিকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, স্যালাইন চলার সময় শিশুটির মা তাকে বুকের দুধ খাওয়ালে তা শ্বাসনালিতে আটকে শিশুটির মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। শিশুটির নিউমোনিয়ার মতো উপসর্গও ছিল। তবে সে হামে আক্রান্ত ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ডা. শাহরিন আক্তার জানান, শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে শিশুর মৃত্যুর পর হাসপাতালে ভাঙচুরের ঘটনায় তৃতীয় কোনো পক্ষের ইন্ধন ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।
চাটখিল থানার ওসি আবদুল মোন্নাফ বলেন, নিহত শিশুর স্বজনেরা থানায় এসেছেন। তাদের সঙ্গে কথা বলে অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করা হবে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চাটখিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগে শিশুটির স্বজনেরা হাসপাতালে কিছু ভাঙচুর করেছেন বলে তিনি জানান।
শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ চিকিৎসা ও তদন্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে চিকিৎসায় কোনো অবহেলা ছিল কি না, থাকলে দায় কার—তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুই মাসের শিশুর মৃত্যু, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে ভাঙচুর
📷 ছবি: সংগৃহীত