আজকে ডিজিটাল দুনিয়ায় স্মার্টফোন হাতে রয়েছে। যেকোনো ঘটনা মুহূর্তে সামাজিক মিডিয়ায় ছড়িয়ে যায়। কিন্তু এই সুবিধা কি আমাদের মানুষিকতা কমায়? যখন দুর্ঘটনা হয়, আহত মানুষকে সাহায্য না করে অনেকেই ভিডিও নেয়। সেই ভিডিও অনলাইনে যায়। ভিউ বাড়ে, লাইক ও মন্তব্য আসে। কিন্তু সময়মতো সাহায্য পেলে হয়তো মানুষ বাঁচতে পারে।
নব্বইয়ের দশকে দুর্ভিক্ষের একটি ছবি বিশ্বে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। ফটোগ্রাফার কেভিন কার্টার এই ছবি তুলেছিলেন। ছবিতে দেখা যায় ক্ষুধার্ত একটি শিশু মাটিতে পড়ে আছে, তার পেছনে শকুন বসে আছে। এই ছবি তাকে পুলিৎজার পুরস্কার এনে দেয়। কিন্তু একই সঙ্গে প্রশ্ন ওঠে, কেন তিনি শিশুকে সাহায্য না করে ছবি তুললেন? পরে মানসিক সংকটের পরে ৩৩ বছর বয়সে কার্টার আত্মহত্যা করেন। এই ঘটনা আজও আমাদের মনে করিয়ে দেয়, মানুষের জীবন সাফল্যের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সংবাদ সংগ্রহ ও তথ্য ছড়িয়ে দেওয়াটা জরুরি। কিন্তু মানুষের জীবন তার চেয়ে বড়। দুর্ঘটনার দৃশ্য ধরার আগে ভাবতে হবে, আহত মানুষকে কী দরকার। তার দরকার ক্যামেরা নয়, বরং দ্রুত চিকিৎসা ও সাহায্য।
এই ভাবনা বদলাতে পরিবার, স্কুল ও সমাজকে কাঁধে মোরে নিতে হবে। মানুষকে শিখাতে হবে, বিপদে পড়া কাউকে দেখলে আগে সাহায্যের হাত বাড়াতে হবে। দুর্ঘটনায় আহত মানুষকে নিরাপদ রাখা, জরুরি সেবায় খবর দেয়া এবং দ্রুত চিকিৎসা করা প্রথম কাজ হওয়া উচিত। প্রশিক্ষণ ছাড়া গুরুতর আহত মানুষকে নাড়াচাড়া না করে জরুরি সেবার নির্দেশনা মানা জরুরি।
মনে রাখুন, ক্যামেরায় ধরা রক্তাক্ত দৃশ্য কারো কাছে মাত্র কয়েক মুহূর্তের কনটেন্ট। কিন্তু সেই দৃশ্যের মানুষটির পরিবারে সারা জীবনের শোক এনে দিতে পারে। আজ অন্যের বিপদে ভিডিও করা হচ্ছে, কাল হয়তো আপনার প্রিয়জনের বিপদেও কেউ একই কাজ করতে পারে।
প্রযুক্তি আমাদের জীবনকে সহজ করেছে। কিন্তু প্রযুক্তি ব্যবহার করলে আমাদের ন্যায়বোধ যেন অদৃশ্য না হয়। ছবি তুলুন, সংবাদ শেয়ার করুন, তথ্য ছড়িয়ে দিন। কিন্তু প্রথমে নিশ্চিত হোন, সামনে থাকা মানুষটি প্রয়োজনীয় সাহায্য পাচ্ছেন কি না। কারণ, একটি ভালো ছবি সাময়িক আলোচনার কারণ হতে পারে। কিন্তু একটি জীবন বাঁচানো চিরস্থায়ী আনন্দ এনে দেয়।
ক্যামেরা নয়, বিপদে আগে সাহায্যের হাত বাড়ান। মানুষের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের প্রথম দায়িত্ব।
মানুষের জীবন আগে, প্রচার পরে