সারাদেশ

বিএনপি একটি ভুল সিদ্ধান্তে মনিরামপুরে জামায়াতের উত্থান। নিশ্চিত আসন হাত ছাড়া বিএনপির।

বিএনপি একটি ভুল সিদ্ধান্তে মনিরামপুরে জামায়াতের উত্থান। নিশ্চিত আসন হাত ছাড়া বিএনপির।


শামছুর রহমান
মনিরামপুর (যশোর)

বাংলাদেশের একটি আসন ৮৯ যশোর ৫ মনিরামপুর। আসনটি আওয়ামীলীগের দখলে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী না থাকায় বিএনপিকে হাতছানি দিয়ে ডাকছিল। এগুচ্ছিল সেই পথে। বিএনপির সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ আসনে ধানের শীষের কান্ডারি বানান পরীক্ষিত থানা বিএনপির সভাপতি এম ইকবাল হোসেনকে। জোয়ার সৃষ্টি হয় তার পক্ষে। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়ে প্রথমবার স্থানীয় বিএনপির প্রার্থী পেয়ে। বিধিবাম, সুখ সইলো না বিএনপির নেতাকর্মীদের মনে। শেষ মুহূর্তে এসে অজানা শক্তির ইশারায় এ আসনে নিবন্ধনহীন জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম প্রার্থী রশিদ আহমদের হাতে তুলে দেওয়া হয় ধানের শীষ। ভেঙে পড়ে নেতাকর্মীরা। চাপ সৃষ্টি করে সভাপতি এম ইকবালকে। বাধ্য হয়ে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিতে হয় তাকে। সতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কলস নিয়ে নির্বাচন চালিয়ে যান। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করার বিএনপি তাকে বহিষ্কার করে। সতন্ত্র নির্বাচন করে ৮৫০৩২ (৩০.৬৭) ভোট পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকেন। প্রার্থী ২ জন হওয়ায় কিছু ভোট হারিয়েছে। একক প্রার্থী হলে ভোটের হিসাব ৪৯% ছাড়িয়ে যেত।

অন্যদিকে থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিন্টু দলীয় সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে রশিদ আহমদের পক্ষে মাঠে নামে। রশিদ আহমদের ব্যাক্তিগত ১% ভোট নেই। ১৯৯০ সালে তার মরহুম পিতা মোহাম্মদ ওয়াক্কাস ভোট পেয়েছিলেন ১,৮%। রশিদ আহমদ ধানের শীষের কান্ডারি হওয়ায় ভোট পান ৫৪৫০৪ (১৯.৬৬%)। এর মধ্যে ১৮% ভোট বিএনপির।

দুই প্রার্থীর লড়াইয়ে জামায়াতের উত্থান ঘটে। সর্বশেষ এ আসনে জামায়াত একক ভাবে নির্বাচন করেছিল ১৯৯০ সালে। হাবিবুর রহমান পেয়েছিলেন ২৩,৬%। বিএনপি শুধু মাত্র ভুলে এ আসনের এমপি জামায়াত ১৩২৮১২(৪৭.৯১%) ভোট পেয়ে গাজী এনামুল হক বিজয়ী।

এম ইকবাল হোসেনের বহিষ্কার আদেশ এখনো অব্যাহত রয়েছে। বর্তমান থানা বিএনপির কমিটিতে সিংহ ভাগ তার পক্ষে। নিজস্ব বলয়ে আছে কর্মী বাহিনী। বহিষ্কার হলেও দলের জন্য যাচ্ছেন ডোর টু ডোর। আশা বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার হবে। আসাদুজ্জামান মিন্টু পরিশ্রম করছেন দলের জন্য। দেখা নেই রশিদ আহমদের।