বিশেষ প্রতিবেদন

মাছ-সবজির চড়া দামে নাভিশ্বাস, বেড়েছে ডালের দামও

মাছ-সবজির চড়া দামে নাভিশ্বাস, বেড়েছে ডালের দামও
‘মাছে-ভাতে বাঙালি’, এই পরিচয় বাঙালির খাদ্যসংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে মাছ, চাল, ডাল ও সবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের বাড়তি দামে চিরচেনা খাদ্যাভ্যাস ধরে রাখা সাধারণ মানুষের জন্য ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। রাজধানীর বাজারে মাছ ও আগাম শীতকালীন সবজির দাম বেশ চড়া। পাশাপাশি কয়েক ধরনের ডালের দামও বেড়েছে। তবে ডিম ও মুরগির দাম প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

রাজধানীর বাজারগুলোতে রুই-কাতলা থেকে শুরু করে তেলাপিয়া, কৈ, পাঙাশ ও ছোট মাছ—সব ধরনের মাছ কিনতেই ক্রেতাদের বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে। রুই-কাতলা ওজনভেদে প্রতি কেজি ৩৫০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তেলাপিয়ার দাম ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। চাষের কৈ ও পাঙাশের দামও কেজিতে ২০০ টাকার নিচে নয়। আর শিংসহ ছোট মাছ কিনতে খরচ হচ্ছে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা।

অন্যদিকে, রাজধানীর কারওয়ান বাজারে চালের দামেও ভিন্নতা রয়েছে। ২৮ ও পাইজাম চাল প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। স্বর্ণা চালের দাম ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। নাজিরশাইল ও মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে ৭৫ থেকে ৯০ টাকায়। তবে সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি সুগন্ধি চিনিগুড়া চালের দাম ২০ টাকা কমেছে।

আগাম শীতকালীন সবজি বাজারে উঠতে শুরু করলেও দাম এখনও চড়া। প্রতি পিস ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে অন্তত ৫০ টাকায়। শিমের কেজি ১২০ টাকা। আকারভেদে প্রতিটি লাউয়ের দাম ৪০ থেকে ৬০ টাকা। পেঁপে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, বেগুন ৫০ থেকে ১২০ টাকা এবং করলা ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া প্রতি হালি কাঁচা কলা বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়। কাঁকরোলের কেজি ৭০ থেকে ৮০ টাকা। কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা কেজি দরে। পটল, ঢেঁড়স ও মুলার দাম কেজিতে ৫০ থেকে ৬০ টাকা। টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৫০ টাকায়। কুমড়ার কেজি ৪০ থেকে ৫৫ টাকা, বরবটি ৯০ থেকে ১০০ টাকা, ঝিঙে ৬৫ থেকে ৭০ টাকা এবং কচুর লতি ৮০ থেকে ৮৫ টাকা। তবে অন্যান্য সবজির দাম মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে।

সবজির পাশাপাশি কয়েক ধরনের ডালের দামও বেড়েছে। ছোলা, বুট, মুগ ও মটর ডালের দাম প্রতি কেজিতে ১০ টাকা করে বৃদ্ধি পেয়েছে।

তবে ডিমের বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়নি। প্রতি ডজন লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকায়। সাদা ডিমের ডজন ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকা এবং হাঁসের ডিমের ডজন ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা। মুরগির দামও স্থিতিশীল রয়েছে।

এদিকে, ভোজ্যতেলের বাজারেও দামের তেমন পরিবর্তন নেই। বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ২০৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খোলা সয়াবিন তেলের লিটার ১৯০ টাকা এবং পাম তেল ১৭৫ টাকা।

মাছ, চাল ও সবজির চড়া দামে চাপে রয়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। নিত্যপ্রয়োজনীয় কিছু পণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকলেও পরিবারের দৈনন্দিন খাবারের খরচ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সীমিত আয়ের মানুষকে।