যশোরের মনিরামপুর পৌরসভার কামালপুর পশ্চিমপাড়ায় বাড়ির মূল ফটকের সামনে পৌরসভার সড়কে পাকা খুঁটি ও বাঁশের বেড়া দিয়ে সড়কে চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। এতে একটি পরিবারের সদস্যসহ সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। তবে বেড়া নির্মাণকারীদের দাবি, ঐ সম্পত্তি তাঁদের ব্যক্তিগত। এ নিয়ে এলাকায় বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী মো. জালাল উদ্দীনের লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, তাঁর বাড়ির মূল ফটকের সামনে দিয়ে প্রায় ২০ বছর ধরে পৌরসভা কর্তৃক অনুমোদিত একটি সোলিং রাস্তা ছিল। পরবর্তীতে প্রায় ১৮ মাস আগে কোভিড-১৯ প্রকল্পের আওতায় রাস্তাটি পুনর্নির্মাণ করে ইউনিব্লক স্থাপন করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে ওই রাস্তা দিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাসহ সাধারণ মানুষ চলাচল করে আসছেন।
গত ২ নভেম্বর ২০২৬ তারিখ বেলা আনুমানিক ১১টার দিকে প্রতিবেশী আরিচ মোল্যা, সোবহান মোল্যা ও উজ্জ্বল মোল্যা পাকা খুঁটি ও বাঁশ দিয়ে বেড়া নির্মাণ করে তাঁদের চলাচলের পথ বন্ধ করে দেয়। এতে বাড়ি থেকে বের হওয়া এবং যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে।
অন্যদিকে, বেড়া নির্মাণকারীরা ওই জায়গাকে নিজেদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি বলে দাবি করছে অভিযুক্তরা। তাঁদের এ দাবির বিপরীতে ভুক্তভোগী জালাল উদ্দীনের বক্তব্য, দীর্ঘ প্রায় দুই দশক ধরে জায়গাটি রাস্তা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে এবং পৌরসভার প্রকল্পের মাধ্যমে সেখানে উন্নয়নকাজও সম্পন্ন হয়েছে। ফলে জায়গাটির প্রকৃত মালিকানা ও রাস্তা হিসেবে ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজন।
জালাল উদ্দীন অভিযোগ করেন, রাস্তার ওপর বেড়া দেওয়ায় তাঁর বাড়িতে থাকা শিশু ও বৃদ্ধ সদস্যদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে পরিবারের কেউ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে কিংবা জরুরি প্রয়োজনছ যানবাহন বাড়ির সামনে পর্যন্ত পৌঁছানো সম্ভব হবে না। এতে বড় ধরনের বিপদের আশঙ্কা রয়েছে।
এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে জালাল উদ্দীন মণিরামপুর পৌরসভার প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। আবেদনে তিনি বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে রাস্তার ওপর স্থাপিত প্রতিবন্ধকতা অপসারণ এবং জনসাধারণের চলাচলে রাস্তা উন্মুক্ত করতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন। আবেদনের সঙ্গে খুঁটি স্থাপনের ছবিও সংযুক্ত করেছেন। এলাকাবাসীর স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে বিষয়টি দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী। সংশ্লিষ্ট জায়গাটি পৌরসভার রেকর্ডভুক্ত রাস্তা, নাকি ব্যক্তিমালিকানাধীন সম্পত্তি—তা প্রয়োজনীয় নথিপত্র, জমির দলিল ও পৌরসভার প্রকল্পসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করে নির্ধারণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে দুই পক্ষের বিরোধ নিরসনে পৌর প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা।
জনসাধারণের চলাচলের স্বার্থ এবং জমির মালিকানা-সংক্রান্ত বিরোধ বিবেচনায় নিয়ে মণিরামপুর পৌর প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিবেন এটাই সকলের প্রত্যাশা।
পৌর সভা সড়কে বেড়া। একটি পরিবার সহ সাধারণ মানুষের চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে।