শিক্ষা

পত্রিকা বিক্রি করে সংসার চালান বাবা, সেই বাবার স্বপ্ন পূরণে জিপিএ ৫ পেলেন ফাহমিদা

পত্রিকা বিক্রি করে সংসার চালান বাবা, সেই বাবার স্বপ্ন পূরণে জিপিএ ৫ পেলেন ফাহমিদা


অভাবের সংসার, সীমিত সামর্থ্য আর প্রতিদিনের জীবনসংগ্রাম—কোনোটিই দমাতে পারেনি অদম্য মেধা ও স্বপ্নবাজ শিক্ষার্থী ফাহমিদাকে। স্থানীয় বাজারে পত্রিকা বিক্রি করে যে বাবা মেয়ের পড়াশোনার খরচ জুগিয়েছেন, সেই বাবার মুখে হাসি ফুটিয়ে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন তিনি।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বাড়বকুণ্ড হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ফাহমিদার এই সাফল্যে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে।

প্রতিদিনের জীবিকা নির্বাহের পাশাপাশি মেয়ের লেখাপড়ার ব্যয় বহন করতে দীর্ঘদিন ধরে পরিশ্রম করে আসছেন ফাহমিদার বাবা। স্থানীয় বাজারগুলোতে পত্রিকা বিক্রি করেই চলে তাঁর সংসার। আর্থিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও মেয়ের শিক্ষার ক্ষেত্রে তিনি পিছিয়ে যাননি। নিজের কষ্টকে আড়াল করে মেয়ের উচ্চশিক্ষার স্বপ্নকে বাস্তব রূপ দিতে নিরলস চেষ্টা চালিয়ে গেছেন।

ফাহমিদার বাবা জানান, মেয়ের এই ফলাফলে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। সারাদিন পত্রিকা বিক্রি করে মেয়ের পড়াশোনার খরচ জোগানোর চেষ্টা করেছেন। তাঁর মেয়ে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখে। মেয়ের সেই স্বপ্ন পূরণে তিনি সবার কাছে দোয়া কামনা করেন।

অন্যদিকে নিজের সাফল্যের পেছনে বাবার শ্রম, ত্যাগ ও অবদানের কথা তুলে ধরে ফাহমিদা বলেন, এই অর্জন শুধু তাঁর একার নয়, বরং তাঁর বাবার কঠোর পরিশ্রমের ফল। পত্রিকা বিক্রি করে বাবা তাঁর পড়াশোনার সব ব্যবস্থা করেছেন। ভবিষ্যতে চিকিৎসক হয়ে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের সেবা করাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য।

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক জানান, ফাহমিদা একজন মেধাবী ও পরিশ্রমী শিক্ষার্থী। তাঁর এই ফলাফল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য গর্বের। ভবিষ্যতেও সে ভালো ফলাফলের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাবে বলে তাঁরা আশাবাদী।

ফাহমিদার এই অর্জন কেবল একটি পরীক্ষার ভালো ফল নয়; এটি একজন পরিশ্রমী বাবার আত্মত্যাগ, সন্তানের প্রতি দায়িত্ববোধ এবং প্রতিকূলতার মধ্যেও শিক্ষার প্রতি অবিচল থাকার এক বাস্তব দৃষ্টান্ত।

সমাজে এমন অসংখ্য পরিবার রয়েছে, যাদের আর্থিক সামর্থ্য সীমিত হলেও সন্তানদের শিক্ষিত করার স্বপ্ন সীমাহীন। ফাহমিদার সাফল্য সেই পরিবারগুলোর জন্য আশার বার্তা। একই সঙ্গে মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার পথ সুগম করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তাও নতুন করে সামনে এনেছে।

অভাব যেন কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীর স্বপ্নের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়—ফাহমিদার সাফল্য থেকে সমাজের জন্য এটাই হোক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।