সারাদেশ

দীর্ঘ যুগের স্বপ্ন যেন কয়েক দিনেই রূপ নিল হতাশায়, নির্মাণমান নিয়ে প্রশ্ন স্থানীয়দের

দীর্ঘ যুগের স্বপ্ন যেন কয়েক দিনেই রূপ নিল হতাশায়, নির্মাণমান নিয়ে প্রশ্ন স্থানীয়দের
📷 ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ যুগের স্বপ্ন যেন কয়েক দিনেই রূপ নিল হতাশায়, নির্মাণমান নিয়ে প্রশ্ন স্থানীয়দের

মো: আল-মাহফুজ শাওন, খুলনা:

খুলনা নগরীর প্রাণকেন্দ্র ডাকবাংলা এলাকায় দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত ড্রেনের ওপর স্ল্যাব বর্ধনের কাজ শুরু হলেও নির্মাণকাজের মান ও তদারকি নিয়ে শুরুতেই উঠেছে নানা অভিযোগ। স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘ যুগের স্বপ্ন যেন মাত্র কয়েক দিনেই রূপ নিয়েছে বড় ধরনের হতাশায়।

বেবি স্ট্যান্ড থেকে এপিসি স্কুল হয়ে মির্জাপুর মল্লিকের মোড় ও সামসুর রহমান রোড পর্যন্ত ড্রেনের ওপর স্ল্যাব বর্ধনের কাজ চলছে। তবে কাজ শুরুর পর থেকেই ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রীর মান, উপকরণের পরিমাণ এবং কাজের তদারকি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

তাদের অভিযোগ, নির্মাণকাজে পর্যাপ্ত রড, বালু ও সিমেন্ট ব্যবহার করা হচ্ছে না। পাশাপাশি নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। কাজের যথাযথ তদারকি না থাকায় নির্মাণমান কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে থাকছে না বলেও দাবি স্থানীয়দের।

এদিকে আশপাশের বাড়িঘরের পানি নিষ্কাশনের পাইপগুলো ড্রেনের সঙ্গে যথাযথভাবে সংযুক্ত না করার অভিযোগ উঠেছে। এতে ভবিষ্যতে পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হয়ে জলাবদ্ধতা ও জনভোগান্তি বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়দের দাবি, নতুন ঢালাইয়ের মাত্র দুই দিনের মধ্যেই বিভিন্ন স্থানে বালু-সিমেন্টের বন্ধন আলগা হয়ে খোয়া বেরিয়ে আসতে দেখা গেছে। কোথাও কোথাও ঢালাইয়ের ভেতরের খোয়া স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হওয়ায় স্ল্যাবের স্থায়িত্ব নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকার মানুষের অন্যতম দাবি ছিল ড্রেনের ওপর টেকসই স্ল্যাব নির্মাণ। সেই প্রত্যাশা পূরণে কাজ শুরু হলেও নির্মাণের শুরুতেই যদি মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, তাহলে দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পরিবর্তে তা নতুন ভোগান্তির কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সরেজমিনে পরিদর্শন করে নির্মাণকাজে ব্যবহৃত রড, বালু, সিমেন্ট ও অন্যান্য উপকরণের মান ও পরিমাণ যাচাই, ঢালাইয়ের পদ্ধতি পরীক্ষা এবং পানি নিষ্কাশনের পাইপ সংযোগ সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে কি না—তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত কার্যকর নজরদারি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে স্ল্যাব বর্ধনের কাজটি টেকসই ও মানসম্মতভাবে সম্পন্ন করা হবে। যাতে দীর্ঘদিনের এই জনদাবি শেষ পর্যন্ত স্বপ্নভঙ্গের কারণ না হয়ে স্থায়ী জনসুবিধায় রূপ নেয়।